বিএনপির এমপি হারুনের সাজা বহালে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ


তারেক আজিজ প্রকাশের সময় : ০৯/১২/২০২১, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ /
বিএনপির এমপি হারুনের সাজা বহালে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ
দুর্নীতি মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এর প্রতিক্রিয়ায় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের নির্বাচনী এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর ও সদর উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে এই আনন্দ মিছিল করে আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের ওয়ালটন মোড়স্থ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় হতে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু  মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়  আনন্দ মিছিল  এর আগে সকালে রায় বহালের খবর পাওয়ার পর থেকেই মিষ্টি বিতরণ করে আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন পর্যায়েও এই মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে আওয়ামীলীগ কর্মীরা। হাইকোর্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের সাজা বহাল রাখায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আওয়ামীলীগ কর্মীরা।
এবিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে কারচুপির চেষ্টা করেছিল। দেশের কোথাও সফল না হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগেরই কিছু নেতার চক্রান্ত ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিএনপি জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। কারচুপির ভোটে নৌকার পরাজয় হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এমপি হারুনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে, বিএনপি দলীয়ভাবেই দূর্নীতিপরায়ণ। যার ফলেই ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাক্ষান করেছে।
এমপি হারুন এ মামলায় যে ১৬ মাস হাজতবাস করেছেন সেই সময়কালটাই সাজা হিসেবে গণ্য হবে। তাকে নতুন করে আর জেলে যেতে হবে না বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এছাড়া আদালত মামলার অপর দুই আসামি ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান ও গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেকের সাজাও বহাল রেখেছেন। তাদেরও নতুন করে আর জেলে যেতে হবে না।
২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর এমপি হারুনুর রশীদ এমপিকে পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হারুন।
শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করে আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় আরও দুইজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান ও গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় শুল্ক মুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রির ঘটনায় হারুনুর রশীদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয় ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ। মামলার বাদী পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী।
মামলাটি তদন্ত করে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৮ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোনায়েম হোসেন। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিচার শুরু করেন আদালত।