হত্যা মামলার এজহার নিয়ে রাতভর নাটক


তারেক আজিজ প্রকাশের সময় : ১২/০৪/২০২১, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ /
হত্যা মামলার এজহার নিয়ে রাতভর নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: অদৃশ্য হাতের ইশারায় গভীর রাতে বদলে গেলো হত্যা মামলার এজাহার। পুলিশ হত্যা মামলার বাদীকে থানায় নিয়ে এজাহার পরিবর্তন করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ভাই হারানো শোকসন্তপ্ত বাদীকে মানসিক চাপ অথবা হুমকি দিয়ে এজাহার পরিবর্তন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় বাদীর দায়ের করা এজাহারে হুকুমের আসামী হিসেবে নাম ছিলো ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান টিপুর।

রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান টিপু (বাদীর দেয়া এজাহার মতে) থানা পুলিশের হেফাজতেই ছিল। তবে, রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে টিপুকে তার ব্যাক্তিগত গাড়ীতে করে থানা থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

বাদী জাব্বার আলী বলছেন পুলিশের কোন চাপে নয়, তার নেতা জসীম উদ্দীনের নির্দেশেই এজাহার পরিবর্তন করেছেন।তবে পুলিশ আমাকে টিপুকে আসামী না করার ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন।

পুলিশ বলেছেন প্রতিহিংসার কারনে তাকে আসামী করে লাভ হবে না। চার্জশীট থেকে তার নাম বাদ দেয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরেই জসীম তাকে ফোন করে এজাহার থেকে টিপুর নাম বাদ দেয়ার কথা বলেন। জসীমের নির্দেশেই টিপুর নাম বাদ দেয়া হয়েছে বলে দাবী করেন জাব্বার।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকে জাব্বার জানিয়েছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যান টিপুর হুকুমেই তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাই তাকেই প্রধান আসামী করে এজাহার দেয়া হয়েছে। তবে গভীর রাতে থানায় গিয়ে বদলে যায় তার সীদ্ধান্ত।

এ নিয়ে এলাকায় একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইউপি চেয়ারম্যান টিপুর থানা পুলিশের হেফাজতে থাকার বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়।

ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দীনকে অন্য মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে এজাহার পরিবর্তন করিয়েছে। পুলিশ তার রাজনীতি শেষ করে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলছেন, পুলিশ জসীমকে চাপ দিয়ে হত্যা মামলার এজাহার পরিবর্তন করিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান বলেন বাদী যে এজাহার দিয়েছে সেটিই মামলা হিসেবে নথীভূক্ত করা হয়েছে। থানায় এজাহার দায়েরের আগে কোন পরিতর্বন করে থাকলে সেটি পুলিশের জানার কথা নয়।