সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বাড়ছে আমদানি-রফতানি


তারেক আজিজ প্রকাশের সময় : ১৭/০১/২০২১, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ /
সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বাড়ছে আমদানি-রফতানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বাড়ছে আমদানি-রফতানি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আহরণ বাড়ছে। শুধু রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি নয়, রীতিমতো চমক দেখিয়েছে সোনামসজিদ কাস্টমস হাউস। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের ১২ মাসের চেয়ে বেশি।
গত অর্থবছরের একই সময়ের (ছয় মাস) তুলনায় এ পরিমাণ ১৫৪ কোটি টাকার বেশি। আর ছয় মাসে আহরণ প্রবৃদ্ধি ২১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেনÑ করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে প্রতিমাসেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। তবে কর্মকর্তাদের তদারকি ও কঠোর নজরদারি বৃদ্ধির ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
সোনামসজিদ কাস্টমস হাউস সূত্র মতে, এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, ভুট্টা, ভুসি, চিড়া, কিছু মেশিনারিজ, পোলট্রি ফিড, ফ্লাইঅ্যাশ ও পেঁয়াজ আমদানি হয়। মৌসুমি ফল যেমন কমলা, আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফল আমদানি হয়। নেট মশারি, পাটের ব্যাগ, পাটের দড়ি, রাইস ব্রান অয়েল ও কিছু গার্মেন্ট পণ্য বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়। তবে এ বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যের ৬০ শতাংশই পাথর। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বর্তমানে দৈনিক প্রায় দেড় শতাধিক পাথরবোঝাই ট্রাক এ বন্দরে আসছে। পাথর আমদানি থেকেই বেশি রাজস্ব আদায় হচ্ছে।
অপরদিকে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি মৌসুমি ফল আমদানি হয় ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে। তবে এ বছর সোনামসজিদ দিয়ে মৌসুমি ফলের আমদানি বেড়েছে। এখন দৈনিক ৩০-৩৫টি ফলের ট্রাক এ বন্দর দিয়ে দেশে ঢুকছে। ফল থেকেও রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। এছাড়া স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ বন্দর দিয়ে কাক্সিক্ষত মাত্রায় আমদানি-রফতানি হয়নি। সম্প্রতি বেশকিছু সমস্যার সমাধান হওয়ায় আমদানি-রফতানির পথ সুগম হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব আহরণও বাড়ছে।
সোনামসজিদ কাস্টমস হাউস সূত্রমতে, রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেট এ কাস্টমস স্টেশনের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে বদ্ধপরিকর। আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি ও শুল্ক ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তবে সুযোগসন্ধানী একশ্রেণির অসাধু আমদানিকারক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সহায়তায় রাজস্ব ফাঁকি দিতে সব সময় তৎপর। বিশেষ করে মিথ্যা ঘোষণায় এ রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা হয়। গত ছয় মাসে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফাঁকি রোধে কাস্টমস তৎপরতা বাড়ানোয় সফলতা আসতে শুরু করেছে।
সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যেখানে গত বছরের একই সময় পর্যন্ত আদায় হয়েছিল ৭৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫৪ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত অর্থবছর ১২ মাসে আদায় হয়েছিল প্রায় ২১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আর চলতি অর্থবছর প্রথম ছয় মাসে গত অর্থবছর ১২ মাসের চেয়ে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে। এছাড়া শুধু ডিসেম্বর মাসে আদায় হয়েছে ৮৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, গত অর্থবছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল ১৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এ কাস্টমস দিয়ে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়কৃত প্রধান কয়েকটি পণ্যের তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি করা পাকুর স্টোন চিলস আমদানির পরিমাণ গত অর্থবছরের ছয় মাসের তুলনায় এক লাখ ২৩ হাজার ৯২২ মেট্রিক টন বেশি হয়েছে। এছাড়া ছয় মাসে আমদানি করা সয়াবিন মিলসের পরিমাণ গত অর্থবছরের ছয় মাসের তুলনায় ২ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন বেশি হয়েছে। তবে পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় ছয় মাসে রাজস্ব আহরণ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
এ বিষয়ে সোনামসজিদ কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব আহরণের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমদানি-রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। রাজস্ব ফাঁকি রোধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। এতদিন এখানে স্থানীয় কিছু মানুষের মধ্যে দলগত কোন্দল ও মতানৈক্য থাকায় অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘœ ঘটত, যার প্রভাব অনেক সময় রাজস্ব আহরণের ওপর পড়ত। বর্তমানে কমিশনার স্যার আগের চেয়ে জনবল দ্বিগুণ করে রাজস্ব ফাঁকি ও কর্ম পরিবেশ ঠিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ফলে ৯৮ শতাংশ বিল অব এন্ট্রি দিনে দিনেই খালাস করা সম্ভব হচ্ছে। পণ্য খালাসে জটিলতা না থাকায় আমদানিকারকরা এ বন্দর ব্যবহারে উৎসাহ পাচ্ছেন। এতে রাজস্ব আহরণ বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।