ভোলাহাটে জঙ্গি পরিবারের পক্ষে আ.লীগ ও প্রশাসনের ইন্ধনে মানববন্ধন


তারেক আজিজ প্রকাশের সময় : ১৬/০৩/২০২১, ৬:১১ অপরাহ্ণ /
ভোলাহাটে জঙ্গি পরিবারের পক্ষে আ.লীগ ও প্রশাসনের ইন্ধনে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক : “চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, জঙ্গির পরিবার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার” শিরোনামে বাংলা টিভি, দৈনিক চাঁপাই দর্পণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জঙ্গি পরিবারকে বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসনের ইন্ধনে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, মানববন্ধনে উপজেলার কয়েকশ মানুষ হাজির করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। মানববন্ধনে বক্তারা সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ করলেও প্রকাশিত সংবাদটিতে ভোলাহাট উপজেলায় হওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এমনকি সরেজমিন পরিদর্শনেও এসব অনিয়মের প্রমাণ মেলে। মানববন্ধন করায় অবাক হয়েছেন জেলার সচেতন মহল। তাদের মনে প্রশ্ন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর পাশাপাশি জঙ্গি পরিবারকে বাঁচাতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন মানববন্ধনে?
সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ও অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন সারোয়ারের নাম। এছাড়াও ভূমিহীন কিংবা ২ শতকের নিচে জমি থাকা পরিবার জমিসহ ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও জঙ্গি সারোয়ারের বড় ভাই মনিরুলের পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে ১৪ শতকের বেশি। অথচ জমির কাগজপত্রে (খতিয়ান) দেখা যাচ্ছে, সারোয়ারের বাবা আব্দুল মান্নানের নামে দুটি খতিয়ানে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। এতে পৈত্রিক সূত্রে দেশে প্রচলিত আইনানুসারে ১৪ শতকেরও বেশি জমি রয়েছে সারোয়ারের ভাই মুদি দোকানী মনিরুল ইসলামের নামে। অথচ তাকেও দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার।
দলদলী ইউনিয়নে এমন কয়েকটি বাড়ি দেয়া হয়েছে, দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কেউ বসবাস করছে না। গরু-ছাগলের বসবাস ও গাঁজাখোরদের আস্তানা হিসেবে রয়েছে এসব বাড়ি। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজেও এর সত্যতা মিলেছে। অন্যদিকে ভোলাহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আলী শাহ দাবি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাড়ি প্রদানের সময় স্থানীয় আ.লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করেননি। এছাড়াও সংবাদটিতে নাম উল্লেখ করে কয়েকজন সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, আ.লীগ নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
জঙ্গি কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করেন এমন একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, জঙ্গি পরিবারকে এই বাড়িটি দেয়ার মাধ্যমে অন্য তরুণদের উৎসাহ দেয়া হয়েছে। কারন এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নবাগত জঙ্গিরা নিজেদের পরিবারকে আরো বেশি সুরক্ষিত মনে করবে। এতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে আরো বেশি গতি আসবে এবং আত্মঘাতী হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক রাব্বুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গরিবুল্লাহ দবির, চার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াজদানী জর্জ, আব্দুল কাদের, আরজেদ আলী ভুটু, মুসফিকুল ইসলাম তারা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাংবাদিক গোলাম কবির, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার, সমবায় কর্মকতা আব্দুল হালিমসহ অন্যরা।