করোনাভাইরাসের প্রভাব: ঋণখেলাপি হওয়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের


তারেক আজিজ প্রকাশের সময় : ২৪/০২/২০২০, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ / ১০
করোনাভাইরাসের প্রভাব: ঋণখেলাপি হওয়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীনের সঙ্গে মাসখানেক ধরে পণ্য সরবরাহে (সাপ্লাই চেইনে) বিঘ্ন ঘটছে।

সময়মতো চীন থেকে পণ্য জাহাজীকরণ না হওয়ায় ঋণের বাড়তি সুদ ও দণ্ডসুদ দিতে হবে। এতে ঋণখেলাপি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ঋণ সহায়তা ও এলসি মূল্য পরিশোধের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

ব্যবসা-বাণিজ্যে করোনাভাইরাসের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ ফজলে ফাহিম এসব তথ্য জানান। মতিঝিলের এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে শেখ ফাহিম বলেন, ব্যাংকিং খাতে পেমেন্ট ওভারডিউ (যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারা) হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ঋণ সহায়তা ও ঋণপত্রের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাংকে সরবরাহ করলে তাদের অ্যাকাউন্ট যাতে ক্লাসিফাইড (খেলাপি) না হয় এবং অতিরিক্ত চার্জ, দণ্ডসুদ (ইন্টারেস্ট পেনালাইজড) না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন।

যেসব ঋণপত্র খোলা আছে, শিপমেন্ট হচ্ছে না এবং শিপমেন্টে সময় লাগছে- সেসব ক্ষেত্রে অন্য কোনো সোর্স থেকে আমদানির সুযোগ থেকে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এসব প্রতিষ্ঠানকে এলসি লিমিটের বাইরে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় সরবরাহ চেইনের নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যাশনাল সাপ্লাই চেইন স্ট্র্যাটেজি করারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। যেসব এলসি আগে খোলা ছিল সেগুলোর জাহাজীকরণ ও ডকুমেন্ট নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। নতুন এলসি খোলাও কমে যাচ্ছে। বস্ত্র ও তৈরি পোশাকসহ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, ফুটওয়্যার, কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিস, মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্টস, কম্পিউটার, ওয়াটার পাম্প, পরিবহন ও যোগাযোগসহ সব খাতে স্বাভাবিক সরবরাহে বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তায় জাতীয় কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শেখ ফাহিম আরও বলেন, ব্যাংকিং সুবিধাসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্য স্টেকহোল্ডারদের সহায়তা পেলে স্বল্প মেয়াদে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব। তবে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় কৌশল গ্রহণ করা যেতে পারে। চীনের সঙ্গে আমদানি-রফতানি ব্যাহত হওয়ায় এর আর্থিক ক্ষতি এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। অন্যদিকে এ বিষয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংগঠনটির সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্র্যান্ডগুলোয় কতটুকু সহানুভূতিশীল হবে, তাদের ডিসকাউন্ট বা বিমানে পাঠানোর প্রয়োজন হবে কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার ওপর ক্ষতি পোষাণোর বিষয়টি বিবেচ্য হবে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের প্রায় ১৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে আমদানি বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ ৮৩১ মিলিয়ন ডলার।

দেশের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাতের কাপড় ও সুতার প্রধান উৎস চীন। পোশাক খাতে বিশেষ করে ওভেন খাতের কাঁচামালের জোগানের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ এবং নিট খাতে ১৫-২০ শতাংশের উৎস চীন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।