আমি নিতে আসিনি, আপনাদের দিতে এসেছি – মেয়র প্রার্থী মনিরুল


তারেক আজিজ প্রকাশের সময় : ০৪/১০/২০২০, ১০:২৮ অপরাহ্ণ /
আমি নিতে আসিনি, আপনাদের দিতে এসেছি – মেয়র প্রার্থী মনিরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে উপজেলার ৯ নং ওয়ার্ড মরদানা গ্রামে আমবাগানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। এ সময় মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে এক নজর দেখা ও কিছু কথা শুনার জন্য বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছুটে আসেন মরদানাবাসী।
মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়টি কাজ করার। খালি বকবক করলে কোন কাজ হয় না, কথা নয় কাজ করে দেখাতে হবে। আমি কথায় না কাজে বিশ্বাস করি। আমি আজ দেখলাম বৃষ্টির পানিতে ডুবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে রাস্তায়। এ সমস্যা নিরসনে শিবগঞ্জ পৌরসভাকে দ্রুত জলবদ্ধতা দূর করতে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মরদানা গ্রাম থেকে চিকিৎসার জন্য শিবগঞ্জ বা চাঁপাই যেতে হয়। আসা যাওয়ার রাস্তাগুলো ভাঙা ও খানাখন্দে ভরা। চিকিৎসা সেবা নিতে তাই অনেক বিলম্ব হয়। পোহাতে হয় অনেক ঝক্কিঝামেলা। সে দিকটি মাথায় রেখে এ গ্রামে একটি মা ও শিশু কেন্দ্র খোলা যায় কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করব। মরদানা গ্রামে মা ও শিশু কেন্দ্র হলে খুব সহজেই চিকিৎসা সেবা পাবে গ্রামের মানুষ। অবহেলা আর বিনা চিকিৎসায় কেউ আর তখন থাকবে না।
মনিরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে শিবগঞ্জ পৌর সভার ওয়েবসাইট চেক করে দেখি পৌর সভার বাজেট বা আয় ব্যয়ের কোন তথ্য সেখানে নেই। আমি এখানে কারো বিরুদ্ধে বা কুৎসা রটাতে আসিনি। আমি এসেছি আমার কথা বলতে। আমি আপনাদের কথা শুনব এবং সে মোতাবেক কাজ করব। আপনাদের ট্যাক্সের টাকাতেই আপনাদের সেবা নিশ্চিত করব। আমি টাকা নিতে আসিনি। আল্লাহ আমাকে আর আমার পরিবারকে যা দিয়েছে তাতেই চলতে পারব। আমি শুধু আপনাদের পাশে থেকে সেবা দিতে চাই যদি আপনারা সে সুযোগ আমাকে দেন।
তিনি বলেন, আজ পৌরসভার স্টাফরা মাসের পর মাস বেতন পাই না। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। তাদেরও সন্তান আছে, পরিবার আছে। তারাই যদি বেতন না পাই তাহলে কাজের প্রতি অনিহা তৈরি হচ্ছে। ফলে ব্যহত হচ্ছে পৌরসভার কাজ। নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষ। আমি মেয়র হলে অবশ্যই এ সমস্যার সমাধান আগে করব।
আপনারা জানেন শিবগঞ্জ পৌরসভা একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। মানুষগুলোও ‘ক’ শ্রেণির কিন্তু সেবাগুলো ‘ক’ শ্রেণির হয়নি। কেন হয়নি সে বিষয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না। আপনারা হয়ত জানেন না, আমি যে সব ওয়ার্ডে, পাড়া বা মহল্লায় পথসভা, উঠান বৈঠক করি সেখানে আমাদের লোক থাকে। আপনারা কি চান, কার কি সমস্যা তা দিন তারিখ দিয়ে ডায়েরিতে লিখে রাখে। পরে সে ডায়রি দেখে কাজটি সম্পন্ন করি। আজ আপনারা আমাকে আপনাদের সকল চাহিদা, দাবি দাওয়ার কথা বলবেন তা ডায়েরিতে লিখে রাখা হবে। পরবর্তীতে ঐ দিন তারিখ দেখিয়ে আপনাদের বলতে পারব এই যে দেখুন অমুক তারিখে এটা করার কথা বলেছিলেন তা করে দিলাম।
আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসি। বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়। এর আগে যারা পৌর সভার দায়িত্ব পালন করেছেন তারা আপনাদের কথা শুনে গেছেন ঠিকি কিন্তু সে কাজটি আর করেন নি। ভুলে গেছেন। ফলে কি হয়েছে, পৌরসভা আপনারা অন্ধকারেই থেকে গেছে। আপনাদের ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হয়নি। আপনাদের চাওয়া পাওয়া পূরণ না হবার কারনে পিছিয়ে গেছে উন্নয়ন। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করলে এই মরদানার মাটিতে কথা দিয়ে যাচ্ছি আপনাদের সকল চাওয়া পাওয়া পূরণ করব।
তখন আপনাদের সামনে এসে বলব আপনাদের একটি মডেল পৌরসভা উপহার দিলাম। দেখিয়ে দিব পৌরসভা কাকে বলে। আজ শিবগঞ্জের দিকে তাকিয়ে দেখলে বোঝাই যায় না যে এটি একটি পৌরসভা। কিন্তু কেন এমন? আজ আপনাদের এই রাস্তাটি দুদিকে ঘেরা হয়েছে ঠিকই অথচ মাঝখানে কিছু নেই। পিচ নেই, খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে তো আরও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এদিকে স্কুলের রাস্তাটি দেখুন অনেক আগে হেয়ারিং করা হয়েছে অথচ কার্পেটিং করা হল না। এর কারনটা কি? তাহলে কি মরদানার মানুষ ট্যাক্স দেয় না। মরদানার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি বরাদ্ধ দেন না। সেটি কোথায় যায়। আজ আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে গেলাম। আপনাদের অধিকারের কথাটুকু বললাম।
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, আপনাদের ভোটেই মেয়র নির্বাচিত হয়। তাহলে আপনাদের অধিকার আছে। সে অধিকার কি আপনারা বুঝিয়ে নিবেন না। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করুন, আমি দেখিয়ে দিতে চাই পৌরসভা কাকে বলে। আমাদের আল্লাহ বাড়ি দিয়েছেন, গাড়ি দিয়েছেন মোট কথা বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার সব আছে। আমরা এখানে ক্ষুধার্থ পেটে আসিনি। ছোট বেলায় আমার আমার বাবা মারা গিয়েছিল। নিজেকে তৈরি করতে বড় কাছে গিয়ে কলেজ ভার্সিটি শেষ করেছি। ছোট্ট সে বৃক্ষটি আজ বড় হয়ে ফল ধরেছে। সে ফলটাই আপনাদের দিতে এসেছি।
মেয়র হয়ে পৌরসভা থেকে আয় করতে আসিনি। সেটা আপনাদের দিতে এসেছি, নিতে আসিনি কিছু। আপনারা উপদেশ দিবেন আমি কাজ করব।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাক্তন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর নেফাউর রহমান, তারাপুর কলেজের প্রভাষক বাহারুল ইসলাম বেনজির, মেসার্স আল মাহি এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মো. ইব্রাহীম আলী, স্থানীয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সোনা মিয়া, ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হক।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি তুষার মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিটুল খান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বেনজির আহমেদ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সোহান মন্ডল, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রাজ, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও পৌর যুবলীগের সদস্য সুমন হায়দার, সহ-সভাপতি আব্দুল জাব্বার জনিসহ স্থানীয় কর্মীরা ।